4:16 am, Sunday, 2 August 2026

ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ভিডিও ভাইরাল, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী বরখাস্ত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিজ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ৩১ জুলাই জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে উল্লেখ করা হয়, অফিস সহকারী মো. জলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও গত ২৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমাজের প্রচলিত শালীনতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, ওই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের আদেশ-অনুশাসন অমান্য করার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩০ জুলাই প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করে মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মচারী প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন। আদেশের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পটুয়াখালী এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কলাপাড়াসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয় কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত অফিস সহকারী জলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মোবাইলে কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, অফিস সহকারী মো. জলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ভিডিও ভাইরাল, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী বরখাস্ত

Update Time : 08:19:19 am, Friday, 31 July 2026

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিজ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ৩১ জুলাই জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে উল্লেখ করা হয়, অফিস সহকারী মো. জলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও গত ২৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমাজের প্রচলিত শালীনতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, ওই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের আদেশ-অনুশাসন অমান্য করার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩০ জুলাই প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করে মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মচারী প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন। আদেশের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পটুয়াখালী এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কলাপাড়াসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয় কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত অফিস সহকারী জলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মোবাইলে কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, অফিস সহকারী মো. জলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।