3:44 am, Saturday, 1 August 2026

কেমন ছিল অধিনায়কত্ব হারানো মিরাজের অধ্যায়

ওয়ানডে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর বছর খানেক আগে ফরম্যাটটির নেতৃত্বে বদল আনল বাংলাদেশ। ওয়ানডের নেতৃত্ব থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে। 

২০২৫ সালের ১২ জুন ওয়ানডে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মিরাজ। ১৩ মাসের বেশি সময়ের দায়িত্বে জয়-পরাজয় দুটোরই স্বাদ পেয়েছেন টাইগার এই অলরাউন্ডার।

মিরাজের অধীনে ২৪ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ১০ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ১৩ ম্যাচে। এর মধ্যে একটি ম্যাচে সুপার ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। মিরাজের সময়ে জয় এসেছে ৪৩.৭৫ শতাংশ ম্যাচে। যার অধিকাংশই এসেছে দেশের মাটিতে।

দেশের বাইরে মিরাজের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ খেলেছে সব মিলিয়ে ১৩ ম্যাচ, যেখানে জয় এসেছে কেবল ২ ম্যাচে। বাকি ১১ ম্যাচে হারের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হার। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের মাটিতে স্বাগতিক দলের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছে।

নেতৃত্বের গুরুভার পেয়েছিলেন অনেকটা আচমকাই। আগের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তেমন কোনো আলাপ না করেই তাকে সরিয়ে মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়কের চেয়ারে বসায় তৎকালীন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড।

অধিনায়ক হিসেবে সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছিল না মিরাজের। জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাজে হারের পর তার অধিানয়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। এরপরই জল্পনা ছড়ায় নেতৃত্বে বদল নিয়ে। নতুন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের বোর্ড অবশ্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই অধিনায়কত্বে বদল এনেছে।

মিরাজের নেতৃত্ব হারানোর বড় কারণ ছিল মাঠে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা নিয়ে। এমনকি অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের ব্যাট-বলের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা উঠেছে। অধিনায়ক হওয়ার পর ২৪ ম্যাচ খেলে ২১ ইনিংস ব্যাট করে ৪৯০ রান করেছেন তিনি। গড় ২৭.২২ এবং স্ট্রাইকরেট ৭১.৩২। ফিফটি ৪টি, যেখানে প্রথম ৪ ম্যাচেই ছিল ৩ ফিফটি।

এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ওয়ানডে দলে ফেরায় দেশের জন্য লাভ হয়েছে। তিনি অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার, বোলার হিসেবে অতটা ভালো না হলেও ব্যাট হাতে দ্যুতি দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ খুব ভালো না গেলেও দলে জায়গাটা পাকা করে ফেলেছেন মোসাদ্দেক।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত মিরাজকে অধিনায়ক করা হয়েছিল এক বছরের জন্য। তবে এক বছর বাকি থাকতেই শেষ হলো মিরাজের অধিনায়ক অধ্যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমন ছিল অধিনায়কত্ব হারানো মিরাজের অধ্যায়

Update Time : 10:07:21 am, Friday, 31 July 2026

ওয়ানডে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর বছর খানেক আগে ফরম্যাটটির নেতৃত্বে বদল আনল বাংলাদেশ। ওয়ানডের নেতৃত্ব থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে। 

২০২৫ সালের ১২ জুন ওয়ানডে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মিরাজ। ১৩ মাসের বেশি সময়ের দায়িত্বে জয়-পরাজয় দুটোরই স্বাদ পেয়েছেন টাইগার এই অলরাউন্ডার।

মিরাজের অধীনে ২৪ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ১০ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ১৩ ম্যাচে। এর মধ্যে একটি ম্যাচে সুপার ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। মিরাজের সময়ে জয় এসেছে ৪৩.৭৫ শতাংশ ম্যাচে। যার অধিকাংশই এসেছে দেশের মাটিতে।

দেশের বাইরে মিরাজের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ খেলেছে সব মিলিয়ে ১৩ ম্যাচ, যেখানে জয় এসেছে কেবল ২ ম্যাচে। বাকি ১১ ম্যাচে হারের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হার। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের মাটিতে স্বাগতিক দলের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছে।

নেতৃত্বের গুরুভার পেয়েছিলেন অনেকটা আচমকাই। আগের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তেমন কোনো আলাপ না করেই তাকে সরিয়ে মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়কের চেয়ারে বসায় তৎকালীন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড।

অধিনায়ক হিসেবে সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছিল না মিরাজের। জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাজে হারের পর তার অধিানয়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। এরপরই জল্পনা ছড়ায় নেতৃত্বে বদল নিয়ে। নতুন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের বোর্ড অবশ্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই অধিনায়কত্বে বদল এনেছে।

মিরাজের নেতৃত্ব হারানোর বড় কারণ ছিল মাঠে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা নিয়ে। এমনকি অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের ব্যাট-বলের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা উঠেছে। অধিনায়ক হওয়ার পর ২৪ ম্যাচ খেলে ২১ ইনিংস ব্যাট করে ৪৯০ রান করেছেন তিনি। গড় ২৭.২২ এবং স্ট্রাইকরেট ৭১.৩২। ফিফটি ৪টি, যেখানে প্রথম ৪ ম্যাচেই ছিল ৩ ফিফটি।

এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ওয়ানডে দলে ফেরায় দেশের জন্য লাভ হয়েছে। তিনি অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার, বোলার হিসেবে অতটা ভালো না হলেও ব্যাট হাতে দ্যুতি দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ খুব ভালো না গেলেও দলে জায়গাটা পাকা করে ফেলেছেন মোসাদ্দেক।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত মিরাজকে অধিনায়ক করা হয়েছিল এক বছরের জন্য। তবে এক বছর বাকি থাকতেই শেষ হলো মিরাজের অধিনায়ক অধ্যায়।