4:15 am, Sunday, 2 August 2026

আফ্রিকা থেকে হাজারো অভিবাসীর ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা

আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের দেশ স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন হাজারো অভিবাসী। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ ঢেউয়ে অভিবাসীরা সাঁতরে ও ভাসমান টিউব ব্যবহার করে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় সীমান্ত পার হওয়ার পর পদদলিত হয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশ করেন। এ সময় পদদলিত হয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়।

সেউতা সরকার জানিয়েছে, গত ১০ দিনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষ সেখানে প্রবেশ করেছেন। এ সময়ের মধ্যেই এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আরও শত শত অভিবাসী সেখানে পৌঁছেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট জেসুস ভিভাস ‘চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। তিনি সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মাদ্রিদকে সেনা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ অভিবাসন সংকটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূখণ্ডটিতে প্রবেশের সময় কয়েকজন অভিবাসী ‘ভিভা এস্পানা!’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অনেকেই মরক্কোর দিক থেকে ফোলানো যায় এমন নৌকায় করে জলপথে এসেছেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, অভিবাসীদের বাঁধের পাশ দিয়ে হেঁটে স্থানীয় সড়কে উঠতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইএফই বলেছে, অন্যরা বেড়া টপকে স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।

অভিবাসী অধিকারকর্মী জাকারিয়া জারোকি রয়টার্সকে বলেন, অভিবাসীর সংখ্যায় এ আকস্মিক বৃদ্ধি ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার মতোই। সে সময় প্রায় ১০ হাজার মরক্কো ও সাব-সাহারান আফ্রিকার তরুণ কয়েক দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টায় লোকজন এখনও মরক্কোর ফনিদেক শহরে জড়ো হচ্ছে।

সেউতা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহরের একটি। এটি ও মেলিলা এই দুটি শহরই আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত গঠন করেছে। ইউরোপে প্রবেশের আশায় অভিবাসীদের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রায়ই এ দুটি শহরে বেড়ে যায়।

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ে বলা হয়েছে, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রপথে আটক হওয়া অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

গার্ডিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে পরিস্থিতি ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, কিন্তু আজ তা যেন বিস্ফোরণ ঘটার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে আগমনের এ আকস্মিক বৃদ্ধি মোকাবিলায় তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কাজে লাগিয়ে অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে মানব পাচারকারী চক্রগুলো।

সূত্র: আল জাজিরা 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকা থেকে হাজারো অভিবাসীর ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা

Update Time : 08:09:40 am, Friday, 31 July 2026

আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের দেশ স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন হাজারো অভিবাসী। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ ঢেউয়ে অভিবাসীরা সাঁতরে ও ভাসমান টিউব ব্যবহার করে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় সীমান্ত পার হওয়ার পর পদদলিত হয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশ করেন। এ সময় পদদলিত হয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়।

সেউতা সরকার জানিয়েছে, গত ১০ দিনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষ সেখানে প্রবেশ করেছেন। এ সময়ের মধ্যেই এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আরও শত শত অভিবাসী সেখানে পৌঁছেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট জেসুস ভিভাস ‘চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। তিনি সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মাদ্রিদকে সেনা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ অভিবাসন সংকটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূখণ্ডটিতে প্রবেশের সময় কয়েকজন অভিবাসী ‘ভিভা এস্পানা!’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অনেকেই মরক্কোর দিক থেকে ফোলানো যায় এমন নৌকায় করে জলপথে এসেছেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, অভিবাসীদের বাঁধের পাশ দিয়ে হেঁটে স্থানীয় সড়কে উঠতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইএফই বলেছে, অন্যরা বেড়া টপকে স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।

অভিবাসী অধিকারকর্মী জাকারিয়া জারোকি রয়টার্সকে বলেন, অভিবাসীর সংখ্যায় এ আকস্মিক বৃদ্ধি ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার মতোই। সে সময় প্রায় ১০ হাজার মরক্কো ও সাব-সাহারান আফ্রিকার তরুণ কয়েক দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টায় লোকজন এখনও মরক্কোর ফনিদেক শহরে জড়ো হচ্ছে।

সেউতা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহরের একটি। এটি ও মেলিলা এই দুটি শহরই আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত গঠন করেছে। ইউরোপে প্রবেশের আশায় অভিবাসীদের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রায়ই এ দুটি শহরে বেড়ে যায়।

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ে বলা হয়েছে, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রপথে আটক হওয়া অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

গার্ডিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে পরিস্থিতি ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, কিন্তু আজ তা যেন বিস্ফোরণ ঘটার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে আগমনের এ আকস্মিক বৃদ্ধি মোকাবিলায় তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কাজে লাগিয়ে অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে মানব পাচারকারী চক্রগুলো।

সূত্র: আল জাজিরা